Saturday, June 28, 2025

32>|| শ্রীহরি বন্দনা ||

        32>|| শ্রীহরি বন্দনা ||

          <----আদ্যনাথ--->

জয় শ্রীকৃষ্ণ গোবিন্দ হরে মুরারে হরি,

হে নাথ নারায়ণ জগৎ তারণ বাসুদেব হরি।

জয় ভগবতে গোবিন্দায় নম নমঃ

জয়  ভগবতে বাসুদেবায় নম নমঃ

জয় শ্রী কৃষ্ণ হরে মুরারে নম নমঃ

জয় রাধা-গোবিন্দ শ্রীকৃষ্ণায় নম নমঃ।


হে নাথ, নারায়ণ, হরি

জয় শ্রী গোপাল,কৃষ্ণ মুরারি।

জয় বাসুদেব, মাধব, মুকুন্দ, হরি,

জয় কৃষ্ণ, কেশব, গোবিন্দ, হরি,

জয় বাসুদেব, গিরিধারী হরি।


জয় সত্য সনাতন প্রভু গিরিধারী হরি,

জয় নিত্য নিরঞ্জন প্রভুগোপাল গবিন্দ হরি,

জয় দীনবন্ধু দুঃখহারী,জগৎ তারণ হরি,

জয় হে নাথ, নরায়ন বাসুদেব হরি।


জয় শ্রীরাধা-কৃষ্ণ, বাদুদেব স্বরণে,

হরি হর বিধিনুত মঙ্গল বরদে।

জয় শ্রী কৃষ্ণ, গোবিন্দ স্বরণে,

মম নতিরেষা তব পদকমলে।।

   <------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

              25/06/2025

=======================


31>|| পুরীর শ্রীরথের বিবরণ ||

      31>|| পুরীর শ্রীরথের বিবরণ ||

            <---আদ্যনাথ--->


★★শ্রীজগ্ননাথ দেবের  ১৬ চাকার রথের নাম নন্দিঘোষ । 

নন্দিঘোষের চাকা  ২৩ হাত উচ্চতা । 

 রথের উচ্চতা: ৪৪ ফুট ২ ইঞ্চি (১৩.৫ মিটার)

দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ: ৩৪ ফুট ৬ ইঞ্চি x ৩৪ ফুট ৬ ইঞ্চি।

জগন্নাথেদেবের রথ লাল ও হলুদ, রঙের

কাপড়ে মোড়া থাকে।

এই রথের সারথী দারুক, 

 রথের রশির নাম শঙ্খচূড় নাগিনী। 

এই রথের ঘোড়া চারটির নাম  শঙ্খিনী,রোষিকা,মোতিকা ও জ্বালিনী । 

মত ভেদে:--

 শঙ্খ,বহ্লক,শ্বেত,হরিদাশ্ব । 

জগ্ননাথের ঘোড়াগুলির সবকটি সাদা ।



★★ বলরামের ১৪ চাকার রথের নাম তালধ্বজ । তালধ্বজের চাকা ২২ হাত উঁচু।  রথের উচ্চতা: ৪৩ ফুট ৩ ইঞ্চি (১৩.২ মিটার)

দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ: ৩৩ ফুট x ৩৩ ফুট

বলভদ্রের রথ  লাল ও সবুজ রঙের কাপড়ে মোড়া থাকে।

এই রথের সারথী মাতলি । 

এই রথের রশির নাম বাসুকী নাগ। 

বলরামের রথের ঘোড়াগুলির নাম ঋক,সাম,যজু,অথর্ব ।


★★. সুভদ্রার ১২চাকার রথের নাম দর্পদলন । দর্পদলনের চাকা ২১ হাত উঁচু ।

রথের উচ্চতা: ৪২ ফুট ৩ ইঞ্চি (১২.৯ মিটার)

দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ: ৩১ ফুট ৬ ইঞ্চি x ৩১ ফুট ৬ ইঞ্চি।

সুভদ্রার রথ দর্পদলন লাল ও কালো রঙের কাপড়ে মোড়া থাকে, 

এই রথের সারথী দেবদত্ত ।

এই রথের রশির নাম স্বর্ণচূড়া নাগিনী।

সুভদ্রার রথের ঘোড়াগুলির নাম শৈব্যা,সুগ্রীব,মেঘপুষ্প,বহ্লক ।


রথযাত্রার সময় সুদর্শন জগন্নাথের পাশে না বরঞ্চ সুভদ্রা দেবীর পাশে অবস্থান করেন । 

তখন জগন্নাথের পাশে ‘মদনমোহন’ বিগ্রহ এবং বলদেবের দু’পাশে ‘রামচন্দ্র’ এবং ‘কৃষ্ণ’ এ দুটি পিতলের বিগ্রহ অবস্থান করেন ।

জগন্নাথের সম্মুখে নৃত্য প্রদর্শনের জন্য একদল সেবিকা রয়েছে যাদেরকে দেবদাসী নামে অভিহিত করা হয় । 


জগন্নাথের রথের প্রতিটি রথের জন্য 

1500 টি করে লোহার কিল বা পেরক লাগে অর্থাৎ 1500×3=মোট 4500 পেরক দরকার হয়।

যেগুলি মন্দিরের নিজেস্ব কামড় শালাতে তৈরি হয়, বৎসরে একবার।

    <-------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী------>


============================

    || রথ যাত্রার নানান অনুষ্ঠান ||


অনাবসার== 

জগন্নাথ পুরীর অনাবসর হল একটি বিশেষ সময় যখন জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রা দেবীকে ১৫ দিনের জন্য বিশ্রাম দেওয়া হয়। এই সময়ে, মন্দিরটি ভক্তদের জন্য বন্ধ থাকে এবং দেবদেবীর মূর্তিগুলিকে নতুন রূপে সজ্জিত করা হয়। এই সময়কালে, দেবতারা অসুস্থ আছেন বলে মনে করা হয় এবং তাদের সেবার জন্য বিশেষ পূজা ও আচার-অনুষ্ঠান করা হয়। 

============


হেরা পঞ্চমী::--


হেরা পঞ্চমী হল পুরীর  জগন্নাথ মন্দিরের একটি উৎসব। এই উৎসবটি রথযাত্রা উৎসবের একটি অঙ্গ। আষাঢ় মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিটি ‘হেরা পঞ্চমী’ নামে পরিচিত। এটি হিন্দু দেবী লক্ষ্মীর উৎসব হিসেবে পরিচিত।


হেরা পঞ্চমী গল্প কথা::--

রথযাত্রা উপলক্ষ্যে জগন্নাথ তার ভ্রাতা বলরাম ও ভগিনী সুভদ্রাকে নিয়ে রথযাত্রায় বের হন। জগন্নাথের পত্নী মহালক্ষ্মী মন্দিরেই থেকে যান। এতে মহালক্ষ্মী জগন্নাথের উপর ক্রুদ্ধ হন এবং গুণ্ডিচা মন্দিরে একটি পালকিতে করে সুবর্ণ মহালক্ষ্মী রূপে এসে রাগান্বিত হয়ে 

ক্রুদ্ধ ভাবে জগন্নাথ কে যত শীঘ্র সম্ভব মন্দিরে ফেরার জন্য বলেন। 

তখন মহালক্ষ্মীকে তুষ্ট করার জন্য জগন্নাথ তাকে ‘আজ্ঞা মালা’ (সম্মতির মালা) উপহার দেন। 


মহালক্ষ্মীকে ক্রুদ্ধ দেখে সেবকেরা গুণ্ডিচার প্রধান দরজাটি বন্ধ করে দেন। মহালক্ষ্মী নকচন দ্বার দিয়ে প্রধান মন্দিরে ফিরে আসেন। একটি স্বতন্ত্র প্রথা অনুসারে, মহালক্ষ্মী তার অন্যতম অনুচরকে জগন্নাথের রথ নান্দীঘোষের একটি অংশ ধ্বংস করার নির্দেশ দেন। গুণ্ডিচা মন্দিরের বাইরে একটি তেঁতুল গাছের পিছনে লুকিয়ে তিনি এটি দেখেন। কিছুক্ষণ পর তিনি লুকিয়ে জগন্নাথ মন্দিরে ফিরে আসেন এবং হেরা গোহরি পথ নামে একটি আলাদা পথে মন্দিরে প্রবেশ করেন।  এই অনুষ্ঠানটি দেখার জন্য পুরীতে প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়।

এই সমগ্র অনুষ্ঠানটি হেরা পঞ্চমী নামে পরিচিত।

=======================

বাহুদা যাত্রা::--বা উল্টো রথযাত্রা।

বাহুদা যাত্রা, যা উল্টো রথযাত্রা নামেও পরিচিত, এটি ওড়িশার পুরীতে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত একটি উৎসব। এটি রথযাত্রার পর ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রাকে তাদের মূল মন্দির, জগন্নাথ মন্দিরে ফিরিয়ে আনার যাত্রা। 

======================

শুনা বেশা বা সুনা ভেষ::--


সুনা ভেষা নামটি দুটি শব্দ থেকে এসেছে, 'সুনা' অর্থ "সোনা" এবং 'ভেশা' অর্থ "পোশাক"। 


সুনা বেষা, রাজাধিরাজ বেষা  রাজা বেষা, বড় তধাউ বেষা এবং রাজরাজেশ্বর বেষা নামেও পরিচিত , হল এমন একটি ঘটনা যখন হিন্দু দেবতা জগন্নাথ , বলভদ্র এবং সুভদ্রা (জগন্নাথ মন্দির , পুরী ) সোনার গয়না দিয়ে শোভিত হয়।  

সুনাভেশা বছরে 5 বার পালন করা হয়।  


1●পৌষ পূর্ণিমা পূর্ণিমা (জানুয়ারি), 

2●বহুদা একাদশী (জুলাই), 

3●দশহারা (অক্টোবর), 

4●কার্তিক পূর্ণিমা (নভেম্বর) এবং 

5●দোল পূর্ণিমা (মার্চ) পালিত হয়। 

==========================


নীলাদ্রি বিজয়::--


নীলাদ্রি বিজয় হলো রথযাত্রা উৎসবের সমাপ্তি এবং ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার নিজ মন্দিরে প্রত্যাবর্তন। 

এই দিনে, দেবতারা রথ থেকে নেমে শ্রীমন্দিরে প্রবেশ করেন। 


এটি আষাঢ় মাসের শুক্লা ত্রয়োদশী তিথিতে পালিত হয়। 

এই উপলক্ষে, দেবী লক্ষ্মীর মান ভাঙানোর জন্য ভগবান জগন্নাথ রসগোল্লা দেন, যা "রসগোল্লা দিবস" হিসেবেও পরিচিত


 

নীলাদ্রি বিজয়ের মূল ঘটনা: 

রথ থেকে নেমে দেবতারা (জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা) শ্রীমন্দিরে প্রবেশ করেন।

দেবী লক্ষ্মী মূল মন্দির (শ্রীমন্দির) এর দরজা বন্ধ করে দেন, কারণ তিনি রথযাত্রায় একা গিয়েছিলেন বলে অভিমান করেন।

দেবী লক্ষ্মীর মান ভাঙানোর জন্য, ভগবান জগন্নাথ তাঁকে মিষ্টি (রসগোল্লা) দেন। এই মিষ্টি বিতরণকে কেন্দ্র করে "রসগোল্লা দিবস" পালিত হয়।

এই ঘটনার মাধ্যমে রথযাত্রা উৎসবের সমাপ্তি ঘটে ।

=======================




Thursday, June 26, 2025

30>|| জগন্নাথের রথযাত্রা 2025 (পর্ব ১+২)

30>|| জগন্নাথের রথযাত্রা 2025 (পর্ব ১+২)



|| প্রভুজগন্নাথের রথযাত্রা ||2025 (পর্ব-১)

               <----আদ্যনাথ--->

আজ শুক্রবার 27 জুন 2025।

     ১২ আষাঢ় ১৪৩২.

শুক্লপক্ষ দ্বিতীয়া তিথি।

আজ প্রভু শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের পুণ্য রথযাত্রা।


আজ সেজে উঠেছে পুরীর রাজপথ,

চারিদিক সুসজ্জিত অক্লান্ত জনপথ,

রাজা থেকে দিনমজুর সকলেই ব্যস্ত, 

পথিক প্রশাসন সকলেই শশব্যস্ত তটস্থ।


পুরীর রাজপথে,

সুবিশাল তিনটি রথে,

দুই ভাই ও ছোট বোন মিলে,

ভগবান চলেছেন নগর দর্শনে।

ওনারা যাবেন মাসির বাড়িতে,

বৎসরে একবার জগৎ উদ্ধার করিতে।

পথে হাজার হাজার মানুষ, 

দেখছে অপলক নয়নে।

সকলের মনকামনা,

রথের রশি একটু স্পর্শ করা।

রংবেরঙের অতিসুন্দর তিনটি রথে,

অপূর্ব সুশোভন সাজে সাজিয়ে,

তেত্রিশকোটি দেবতা গণ,

চলেছেন তিন রথে আসীন হয়ে।

দেবতারাও আনন্দিত,

তিন ভাই বোনের সাথে।

কি অপূর্ব শোভা যাত্রা, 

চারিদিক মুখরিত মানুষের জয় ধ্বনিতে,

তিন ভাই বোন চলেছেন মাসির বাড়িতে।

জগন্নাথ,বলরাম, সুভদ্রা সপ্তাহকাল

থাকবেন মন্দির ছেড়ে মাসির বাড়িতে।

গুন্ডিচা মন্দিরে চলছে উৎসব মহা ধুম- ধামে,

এ-হেন দর্শনে অগণিত মানুষ উদ্ধার হবে।

জগন্নাথ জগতের প্রতিপালক জগৎ পিতা

জগতের নাথ মহা আনন্দে আজ সকল প্রাণীর ত্রাতা,

হাজার হাজার মানুষ মহারথ টেনে আনলেন গুন্ডিচার মন্দিরে।

পুরীর মন্দির থেকে তিন কিলোমিটার পথ,

মানুষের ছিল অবিচল ভক্তি ও শপথ।

রাজপথে ভগবানের সাক্ষাতে বিভোর আনন্দে,

ভগবান দেখছেন জগৎ কে খোলা আকাশের নিচে।

অজস্র মানুষের চলছে বেসাতি,

আজ বণিক ব্যস্ত বিক্রয়ে পণ্য সামগ্রী।

চলছে রথের মেলা পুরীর রাজ পথে,

ভগবান আজ নেবে এসেছেন মন্দির থেকে রাজ পথে।

সপ্তাহ কাল পরে জগন্নাথ দেব ভাই বোন কে নিয়ে, 

বাহুদা যাত্রায় ফিরবেন পুরীর  মন্দিরে।

সেথায় দেখা দেবেন দেবতা সুনা-ভেষাতে।

   <------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

     27/06/2025::--সকাল 5:30 am

=========================



|| প্রভুজগন্নাথের রথযাত্রা ||2025(পর্ব-2)

    || মনুষ্য শরীরই রথ ||

          <----আদ্যনাথ--->

নানান আচার অনুষ্ঠানে পূর্ন হয় 

রথ-যাত্রার মেলা,

সৃষ্টি কর্তা ঈশ্বরের এও এক লীলা খেলা।

রথযাত্রা নীলমাধবের আশীষ বর্ষণ মেলা।

শরীর রুপি রথের মাহাত্ম্য কথা,

আমাদের শরীর ও জগন্নাথ দেবের রথ

যেন একই সূত্রে গাঁথা।

প্রভু জগন্নাথ দেবের রথ,

সত্যই মানব দেহের প্রতিরূপের শপথ।

প্রভুর রথে আছে কাঠ ২০৬ টি,

মানব দেহে আছে হাড় ২০৬ টি ।

রথের ১৬ টি চাকা যেন

মানব দেহের পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয়,

পঞ্চ কর্মেন্দ্রিয় এবং ষড় রিপুর প্রতীক।

সারথি দারুক যেন বুদ্ধি রূপে স্থিত,

আর রথী প্রভু জগন্নাথ নিজে উদ্ভাসিত।

আমাদের আত্মাই জগতের নাথ,

জগৎ উদ্ধারের তরে প্রভু জগন্নাথ।

উল্টো রথের যাত্রা শেষে,

রথ পুরীর মন্দিরে আসেন ফিরে।

প্রভু জগন্নাথ রথ থেকে নেবে গেলে,

সেই রথকে রাখা যায় না, করা হয় নষ্ট।

(সেই কাঠ পুড়িয়ে জগন্নাথের ভোগ রান্না করা হয়।)

যেমন দেহ থেকে আত্মা চলে গেলে,

শরীরকে রাখা যায় না করা হয় নষ্ট।

(মৃত দেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়)


কঠ উপনিষদেই তো আছে

জীবের দেহ রথ, জীবাত্মা রথী,

মন-হচ্ছে-রথের-রশি-আর-বুদ্ধি-সারথি।

অর্থাৎ আমাদের শরীর রথে

অবস্থিত আত্মাই রথের রথী,

সেই আত্মাকে নির্গুণ স্তরে পৌঁছাতে সারথি বুদ্ধি, রশি মনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে দশ ইন্দ্রিয় এবং ষড় রিপু গুলোকে।

তারপরে আত্মা দেহ ত্যাগ করলে,

শরীরকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মাধ্যমে নষ্ট করাই রীতি।


তাইতো রথের দর্শন ও রশি স্পর্শ,

ইহ জগতে এক শ্রেষ্ঠ কর্ম।

 জয় জগন্নাথ,

জয় জগতের নাথ,

জয় ঈশ্বরের ঈশ্বর জগদীশ্বর,

জয় শ্রীকৃষ্ণ হরে মুরারে,

লহো মোর প্রণাম তব শ্রীপদকমলে।।

 <------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

===========================

    


Sunday, May 11, 2025

29>|| দীঘার জগন্নাথ মন্দির:::--

 

29>|| দীঘার জগন্নাথ মন্দির:::--

নয়া নির্মিত জগন্নাথ মন্দির, দীঘা সমুদ্র সৈকত, 30 এপ্রিল 2025 ,
আজ প্রাণ প্রতিষ্ঠা ও দ্বার উদ্ঘাটন।

জগন্নাথ মন্দির হল জগন্নাথকে উৎসর্গ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু মন্দির। এই মন্দিরে পূজিত দেবতা হলেন জগন্নাথ, যা বিষ্ণুর একটি রূপ – হিন্দুধর্মের সর্বোচ্চ দেবত্বের ত্রিত্বের একটি। মন্দিরটি নির্মিত হলো ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের সমুদ্র সৈকত শহর দীঘায় ।
স্থানাঙ্ক ::--২১.৬২৩০০৭৬° উত্তর ৮৭.৪৯২৩৫৭২° পূর্ব।

এটি কলিঙ্গ স্থাপত্য অনুকরণে তৈরির দ্বায়ীত্বে পশ্চিম বঙ্গের হিডকো।
আজ 30 এপ্রিল 2025 অক্ষয় তৃতীয়ার শুভ মুহূর্তে ভগবান জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলভদ্রের প্রাণ প্রতিষ্ঠা ও সাধারণের জন্য মন্দিরের দ্বার উদ্ঘাটন হয়।

30 এপ্রিল 2025 অক্ষয় তৃতীয়ার দিন,
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উপস্থিত থেকে সকল কাজ তত্ত্বাবধান করেন। মুখ্য মন্ত্রীকে সোনার ঝাড়ু হাতে দেখা গেছে।
প্রতিমার প্রাণ প্রতিষ্ঠায় তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন।
মন্দিরের উচ্চতা  65 মি (213 ফুট)।
সমুদ্রের ধারে দীঘাস্থিত পুরনো জগন্নাথ মন্দিরের জায়গাতেই নতুন মন্দির গড়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে পরিবেশগত নিষেধাজ্ঞায় সেখানে মন্দির নির্মাণ করা যায়নি। পরে দিঘা স্টেশনের পাশে মন্দির তৈরির জন্য জমি নির্বাচন করা হয়েছিল। দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ মন্দিরের জন্য 20 একর জমি প্রদান করে। মন্দির নির্মাণের দায়িত্ব হিডকো-কে দেওয়া হয়। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে জগন্নাথ মন্দির নির্মাণ কাজের সূচনা রাজ্যের মন্ত্রী অখিল গিরি শুভ অক্ষয়তৃতীয়া তিথিতে করেছিলেন। নির্মাণ কাজের ব্যয় হিসাবে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল।

মন্দিরের উচ্চতা 65 মিটার ( 213 ফুট)। এই মন্দিরটি নির্মাণে রাজস্থানের বংশী পাহাড়ের বিখ্যাত বেলেপাথর ব্যবহার করা হয়েছে।
==========================

Monday, July 8, 2024

28>|| आज प्रभु जगन्नाथ जी की रथ जात्रा 2024 ||

  28>|| आज प्रभु जगन्नाथ जी की रथ जात्रा 2024 ||

                   <---आद्यनाथ-->


रथ जात्रा की महिमा अपार,

प्रभु जगन्नाथ जी की महिमाभी अपार।

प्रभु आज आनन्द सरूप साकार,

रथमे प्रभु देखते हैं सबकी हृदय आधार।


पूजते हैं सबकोइ हृदयसे बार बार,

शुभद्रा की आशीष वर्षे चारि धार,

बलराम जी करतेहैं रख्या सारे संसार,

प्रभु जगन्नाथ जी की महिमा अपार।


जगन्नाथजी की रथ यात्रा का वर्णन स्कंद पुराण में हैं,

जगन्नाथजी की रथ यात्रा का सारे महत्व बताया गया है, 

रथ यात्रा में जो व्यक्ति श्री जगन्नाथ जी की नाम कीर्तन करता हुआ  गुंडिचा तक जाता है

वह पुनर्जन्म के बंधन से मुक्त हो जाता है।

जो नाम का कीर्तन करते हुए रथ यात्रा में शामिल होता है, 

उनकी सारी मनोकामनाएं पूरी हो जाती है।

   <----आद्यनाथ राय चौधुरी--->

       07/07/2024:::05:15:12 am

==========================


Monday, September 11, 2023

27>|| কৃষ্ণজন্মাষ্টমী /যোগমায়ার জন্মদিন মা বিন্ধ্যবাসিনী ||

 27>|| কৃষ্ণজন্মাষ্টমী /যোগমায়ার জন্মদিন মা বিন্ধ্যবাসিনী  ||


জন্মাষ্টমী বা কৃষ্ণজন্মাষ্টমী, বিষ্ণুর অবতার কৃষ্ণের জন্মদিন হিসেবে পালিত হয়। এর অপর নাম কৃষ্ণাষ্টমী, গোকুলাষ্টমী, অষ্টমী রোহিণী, শ্রীকৃষ্ণজয়ন্তী ইত্যাদি।


জন্মাষ্টমীতে পূজিত হয় কৃষ্ণের বালগোপাল মূর্তি। 

২ থেকে ৮ দিন পর্যন্ত পালনই করা হয়।

কোথাও দুই দিন কোথাও ৮ দিন পালন করা হয়।


ভাদ্র মাসের  কৃষ্ণ পক্ষের অষ্টমী তিথিতে পালিত হয় এই জন্মাষ্টমী ব্রত।


হিন্দু পঞ্জিকা মতে, সৌর ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে রোহিণী নক্ষত্রে কংসের কারাগারে  শ্রী কৃষ্ণের জন্ম হয়।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পিতার নাম বসুদেব ও মাতার নাম দেবকী। শ্রীকৃষ্ণ পিতামাতার অষ্টম পুত্র।


ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জীবনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড (গান বা কীর্তন, গীতিনাট্য, নাট্য, যাত্রা ইত্যাদি) এর মাধ্যমে রাসলীলা, কংস বধ ইত্যাদি কর্মকাণ্ড উপস্থাপন করা হয়। মথুরা, বৃন্দাবন, মণিপুর ইত্যাদি স্থানে এই অনুষ্ঠান অত্যন্ত আড়ম্বরের সাথে করা হয়। রাস লীলায় কৃষ্ণের ছোট বয়সের কর্ম-কাণ্ড দেখানো হয়, অন্যদিকে, দহি হাণ্ডি প্রথায় কৃষ্ণের দুষ্টু স্বভাব প্রতিফলিত করা হয় যেখানে কয়েকজন শিশু মিলে উচ্চস্থানে বেঁধে রাখা মাখনের হাড়ি ভাঙতে চেষ্টা করে। এই পরম্পরাকে তামিলনাডুতে উরিয়াদি নামে পালন করা হয়। 


কৃষ্ণের জন্ম হাওয়ায় নন্দরাজ সকলকে উপহার বিতরণ করেন এবং সেই কাহিনী উদ্‌যাপন করতে কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর পর বহু স্থানে নন্দোৎসব পালন করা হয়।


সৌর ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে রোহিণী নক্ষত্রে মথুরায় কংসের কারাগারে জন্ম নিয়েছেন বিষ্ণুর দশম অবতার, শ্রীকৃষ্ণ। 


মথুরায় জন্মের পর শ্রী কৃষ্ণের পিতা 

বসুদেব তাকে রেখে আসেন গোকূলে নন্দরাজের বাড়িতে। সেই থেকেই দিনটি পালন করা হয় জন্মাষ্টমী হিসেবে।


       || যোগমায়ার জন্মদিন ||


 যোগমায়ার জন্মদিন। যোগমায়া, শ্রীকৃষ্ণের বোন। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণা অষ্টমীর এক দুর্যোগময় রাতে গোকুলে জন্মেছিল একটি মেয়ে। এই কৃষ্ণা অষ্টমীর  দিনেই।  তার বাবার নাম নন্দ, মা  যশোদা। সদ্যোজাত মেয়েটির মা প্রসব যন্ত্রণায় অচেতন। বাইরে প্রবল দুর্যোগ। আকাশ যেন ভেঙে পড়ছে পৃথিবীর বুকে! 


 তখনও হয়তো  ঠিক মতন শিশুকন্যাটি দেখতে পায়নি মায়ের মুখ।

জন্মের কয়েক মূহুর্ত পরেই চিরকালের জন্য পরিবারহারা হয়েছিল সেই মেয়েটি।

সেই ছোট্ট মেয়েটি যোগমায়া।


ওদিকে ছেলেকে ঝুড়িতে করে মাথায়  নিয়ে প্রবল বৃষ্টির রাতে ভরা যমুনা সাঁতরে পেরিয়ে বাসুদেব এলেন নদীর ওপারে গোপ পল্লীতে। নন্দ গোপের বাড়ি। 


কোন এক অদৃশ্য শক্তিবলে নন্দের গোপ পল্লিতেও  খোলা ছিল দরজা। গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন ছিলেন আরেক সদ্য প্রসূতি, মা যশোদা সহ সকল পরিবার। 

কোলের কাছে ঘুমোচ্ছিল শিশু কন্যা সন্তান। বসুদেব নিজের ছেলেটিকে যশোদার বুকের কাছে শুইয়ে দিয়ে যশোদা শিশুকন্যা টিকে তুলে নিলেন বাসুদেব। 


তারপর আবার সবার অগোচরে দ্রুত নদী পেরিয়ে ফিরে এলেন কংসের কারাগারে। নিরাপদ হল সেই ক্ষুদ্র প্রাণ, ভবিষ্যতে যিনি হবেন মথুরার রাজা শ্রীকৃষ্ণ, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ।দেশজুড়ে পালিত হয় কৃষ্ণের জন্মোত্সব।  


ওদিকে  পরদিন সকালে শিশুরুপি  যোগমায়াকে  দেখেই কংস  সেই সদ্যোজাত মেয়েটির দুই পা ধরে তাকে পাথরে আছাড় মারেন। এমন ই দুরাত্মা কংস। 


যশোদার সন্তান হয়েছিল অপরাহ্নে। তাঁকে জানতেই দেওয়া হয়নি তার সন্তান পুত্র না কন্যা?


পরের দিন জ্ঞান ফিরলে যশোদা পরম আদরে কোলে টেনে নিলেন শিশু কৃষ্ণকে। স্তন্যদুগ্ধে পুষ্ট করলেন তাকে। চোখে হারাতেন তিনি তাঁর কানাইকে। 


নন্দগোপ কিন্তু কোনো প্রকৃত গয়লা ছিলেন না। তিনি বসুদেবের পিতা যদুবংশীয় রাজা শূরসেনের সন্তান। তাঁকে গয়লা অধ্যুষিত গোকুলের সামন্তরাজা করা হয়। নন্দ তাই গয়লাদের রাজা ।বসুদেবের বৈমাত্রেয় ভাই। ভগবান কৃষ্ণের কাকা। 


দেবকীদেবী কংসের নিজের বোন নন। কংসের পিতা উগ্রসেন যাদবদের নেতৃস্থানীয় ছিলেন। সেই উগ্রসেনের ভাই দেবকের কন্যা দেবকী। 


এবারে আসা যাক ভগবৎ লীলার বাকি অংশে।


কারাগারের দেওয়ালে আছাড় মারতে চেয়ে দুই হাতে মেয়েটিকে তুলে ধরলেন নিষ্ঠুর দুরাত্মা কংস। সজোরে নিক্ষেপ করলেন পাথরে। কিন্তু তাকে মারবে সাধ্য কার! তৎক্ষণাৎ সেই কন্যা কংসের হাত থেকে মুক্ত হয়ে আকাশে উঠলো। আট হাতে ধারণ করল ধনুু, শূল, বাণ, চর্ম, অসি, শঙ্খ, চক্র, গদা! আবির্ভূতা হলেন আদ্যাশক্তি রূপে। কংসের উদ্দেশ্যে ভেসে এল আকাশবাণী- 

"তোমারে বধিবে যে, গোকুলে বাড়িছে সে!" 

এরপর‌ যোগমায়া  বিন্ধ্য পর্বতে লোক কল্যাণের জন্য বিন্ধ্যবাসিনী রূপে অধিষ্ঠিতা হন।

জয় শ্রী কৃষ্ণ নারায়ন ।।

জয় মা যোগমায়া কালিকা।

ওঁ তৎসৎ।।

==========================


রাজা নন্দগোপ ছিলেন বসুদেবের পিতা যদুবংশীয় রাজা শূরসেনের সন্তান। 

তাঁকে গয়লা অধ্যুষিত গোকুলের সামন্তরাজা করা হয়। নন্দ তাই গয়লাদের রাজা ।বসুদেবের বৈমাত্রেয় ভাই। ভগবান কৃষ্ণের কাকা। 


দেবকীদেবী কংসের নিজের বোন ছিলেন না। কংসের পিতা উগ্রসেন ছিলেন যাদবদের নেতৃস্থানীয় । এই উগ্রসেনের ভাই দেবকের কন্যা দেবকী। 

এই দেবকির সাথেই বসুদেবের বিবাহ হয়।

কিন্তু হঠাৎ নিষ্ঠুর দুরাত্মা কংস আকাশ বাণীতে শুনতে পায় যে এই দেবকির গর্ভ জাত সন্তানই তার মৃত্যুদূত রূপে জন্ম নেবে।

এমন ভয়ঙ্কর কথা জানতে পেরেই কংস দেবকি ও তার স্বামী বসুদেবকে কারাগারে নিক্ষেপ করে।

সেই কংসের কারাগারেই দেবকির অষ্টম গর্ভের সন্তান ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয় 

 ভাদ্র মাসের  কৃষ্ণ পক্ষের অষ্টমী তিথিতে।

      <------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

                06/09/2023

===========================


Thursday, June 29, 2023

26>||চন্দন যাত্রা::--অক্ষয় তৃতীয়াতে::--

   26>||>চন্দন যাত্রা::--অক্ষয় তৃতীয়াতে::--

 দীর্ঘ ২১ দিন ধরে  প্রত্যহ পূজারী প্রভু গোপীনাথের শ্রীঅঙ্গে চন্দন লেপন করলেন। সেইদিন থেকেই চন্দন যাত্রা শুরু।

হিন্দু পুরাণ মতে, অক্ষয় তৃতীয়ার (Akshaya Tritiya) দিন সত্যযুগের অবসান ঘটিয়ে ক্রেতা যুগের সুচনা হয়। অক্ষয় তৃতীয়া হলো চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্ল পক্ষের তৃতীয়া তিথি, অক্ষয় তৃতীয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ তিথি, অক্ষয় শব্দের অর্থ হল যা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। বৈদিক বিশ্বাসানুসারে এই পবিত্র তিথিতে কোন শুভকার্য সম্পন্ন হলে তা অনন্তকাল অক্ষয় হয়ে থাকে। উৎকলখণ্ডে বর্ণিত আছে, শ্রীজগন্নাথদেব  মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্নকে বৈশাখী শুক্লা অক্ষয় তৃতীয়াতে সুগন্ধি চন্দন দ্বারা জগন্নাথের অঙ্গে লেপন করার নির্দ্দেশ দিয়েছিলেন। সেদিন থেকে শুরু হয় চন্দন যাত্রা  উৎসব। গ্রীষ্ম ঋতুতে শ্রীহরির অঙ্গে কর্পূর চন্দন লেপন করলে ভগবান শ্রীহরি প্রীত হন।

দুই বছর পর ভক্তদের উপস্থিতিতে এবার বিখ্যাত চন্দন যাত্রা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। পুরীর নরেন্দ্রপুকুর চন্দন যাত্রার জন্য সুন্দর করে সাজানো হয়েছিল। ঐতিহ্য অনুসারে, অক্ষয় তৃতীয়ার অনুষ্ঠান বিশ্ব বিখ্যাত রথযাত্রার রথ নির্মাণের সূচনা করে। চলতি বছরের ১ জুলাই জগন্নাথ রথযাত্রা উৎসব পালন করা হবে।

চন্দ্নযাত্রা

চন্দন যাত্রা চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লা তৃতীয়া তিথিতে শুরু হয়ে ২১ দিন পর্যন্ত চলে। ভগবান শ্রীজগন্নাথদেব এই দিনে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নকে চন্দনযাত্রা মহোৎসবটি পালন করার জন্য সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন। ভগবানের অঙ্গলেপন এক ধরণের ভক্তিমূলক কর্ম এবং চন্দন হল সর্বশ্রেষ্ঠ প্রলেপন। যেহেতু ভারতে বৈশাখ মাস অত্যন্ত উষ্ণ থাকে, তাই চন্দনের শীতল গুণ ভগবানের আনন্দ প্রদান করে। জগন্নাথের দুই চক্ষু ব্যতীত সর্বাঙ্গে চন্দন লেপন করা হয়ে থাকে। এবং উৎসব-মূর্তি বা বিগ্রহগণকে নিয়ে শোভাযাত্রা করা হয় এবং মন্দির পুষ্করিণীতে নৌকাবিহার করা হয়ে থাকে।

শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে দেখা যায়, বৃন্দাবনে পরম বৈষ্ণব শ্রীমাধবেন্দ্র পুরীকে স্বপ্নে তাঁর আরাধ্য শ্রীগোপাল বলছেন, “আমার শরীরের তাপ জুড়োচ্ছে না। মলয় প্রদেশ থেকে চন্দন নিয়ে এসো এবং তা ঘষে আমার অঙ্গে লেপন কর, তা হলে তাপ জুড়োবে।” তার পর বৃদ্ধ মাধবেন্দ্র পুরীপাদ পূর্বভারতে নীলাচলে জগন্নাথধাম পুরীতে এসে রাজার কাছে পূর্ব স্বপ্নগত সমস্ত কথা বললেন। রাজা গোপালের জন্য এক মণ মলয়জ চন্দন, ২০ তুলা কর্পূর এবং এই চন্দন বহে নিয়ে আসার জন্য দুইজন সেবকের ব্যবস্থা করেদিলেন। মাধবেন্দ্র পুরীপাদ রাজার কাছে মলয়জ চন্দন ও কর্পূর নিয়ে বৃন্দাবনে ফিরছিলেন। পথে রেমুণাতে শ্রীগোপীনাথ মন্দিরে আসেন। সেই রাত্রে সেখানে শয়ন কালে স্বপ্ন দেখেন, গোপাল এসে বলছেন, “হে মাধবেন্দ্র পুরী, আমি ইতিমধ্যেই সমস্ত চন্দন ও কর্পূর গ্রহণ করেছি। এখন কর্পূর সহ এই চন্দন ঘষে ঘষে শ্রীগোপীনাথের অঙ্গে লেপন কর। গোপীনাথ ও আমি অভিন্ন। গোপীনাথের অঙ্গে চন্দন লাগালেই আমার অঙ্গ শীতল হবে।” সকালে শ্রীমাধবেন্দ্র পুরিপাদ পূজারীর নিকট রাত্রের স্বপ্নের সমস্ত কথা বলিলেন। পূজারী প্রভু শুনে খুব খুশি হলেন এবং কর্পূর আর চন্দন ঘষে শ্রীগোপীনাথের শ্রীঅঙ্গে লেপন করলেন। দীর্ঘ ২১ দিন ধরে এইভাবে প্রত্যহ পূজারী প্রভু গোপীনাথের শ্রীঅঙ্গে লেপন করলেন। সেইদিন থেকেই চন্দন যাত্রা শুরু হল।

°==================================