Friday, March 27, 2026

40>|| কাশীতে দেবী অন্নপূর্ণা ||

  40>||  কাশীতে দেবী অন্নপূর্ণা ||

 ছোট করে একটু অন্নপূর্ণা মায়ের কথা::--


দেবী অন্নপূর্ণা হলেন আদিশক্তি জগদম্বা।

মহা শক্তির এক বিশেষ রূপ, যিনি জগতের ক্ষুধা নিবারণ করেন। তাঁর মহিমা এবং পৃথিবীতে তাঁর আবির্ভাবের কাহিনী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। -----

শিব ও শক্তির বিবাদ:

পুরাণ মতে, একবার দেবাদিদেব মহাদেব ও দেবী পার্বতীর মধ্যে একটি তাত্ত্বিক আলোচনা চলছিল। শিব বলেছিলেন, "এই জগৎ আসলে একটি মায়া বা ভ্রম। জগৎ ও জগতের অন্ন—সবই নশ্বর এবং মিথ্যা।"

দেবী পার্বতী, যিনি সমগ্র সৃষ্টিকে সন্তানের মতো পালন করেন, তিনি এই তত্ত্বে সম্মত হতে পারলেন না। তিনি মনে করালেন যে, শরীর যদি না থাকে তবে ব্রহ্মজ্ঞান বা মুক্তি লাভ অসম্ভব, আর সেই শরীরের জন্য অন্ন বা খাদ্যের প্রয়োজন অনস্বীকার্য।


দেবী পার্বতীর অন্তর্ধান ও খাদ্যাভাব:

শিবের কথা প্রমাণ করতে এবং জগতের গুরুত্ব বোঝাতে দেবী পার্বতী হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেলেন। প্রকৃতির প্রধান চালিকাশক্তি বা আদ্যাশক্তি অন্তরিত হওয়ায় পৃথিবী স্থবির হয়ে পড়ল। চারিদিকে খরা দেখা দিল, শস্য উৎপাদন বন্ধ হলো এবং মানুষের মধ্যে হাহাকার শুরু হলো। এমনকি দেবতাদের মধ্যেও ক্ষুধার জ্বালা প্রবল হয়ে উঠল। শিবের অনুচর এবং স্বয়ং শিবও ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করতে লাগলেন।


কাশীতে দেবী অন্নপূর্ণার আবির্ভাব:

ভক্তদের আর্তনাদে দেবী পার্বতী ব্যথিত হলেন। তিনি করুণার বশবর্তী হয়ে মহাতীর্থ বারাণসীতে (কাশী) অন্নপূর্ণা রূপে আবির্ভূত হলেন। তিনি সেখানে একটি রান্নাঘর বা অন্নশালা স্থাপন করলেন এবং ক্ষুধার্তদের মধ্যে অন্ন বিতরণ শুরু করলেন।

খবর ছড়িয়ে পড়ল যে মা অন্নপূর্ণা কাশীতে অন্ন দান করছেন। দেবতারা এবং সাধারণ মানুষ সেখানে ভিড় জমাতে শুরু করলেন। জগতের সব প্রাণী আবার প্রাণ ফিরে পেল।


শিবের ভিক্ষা গ্রহণ:

স্বয়ং মহাদেব বুঝতে পারলেন যে, শরীর টিকিয়ে রাখার জন্য অন্ন কখনোই 'মিথ্যা' হতে পারে না। এটি পরম ব্রহ্মের এক রূপ। জগতের নাথ হওয়া সত্ত্বেও তিনি একজন সাধারণ ভিক্ষুকের বেশ ধরে কাশীতে দেবী অন্নপূর্ণার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন।

দেবী হাসিমুখে তাঁর স্বামী এবং জগতের ঈশ্বরকে স্বর্ণপাত্র থেকে অন্ন প্রদান করলেন। শিব উপলব্ধি করলেন যে অন্ন কেবল পেট ভরায় না, এটি আধ্যাত্মিক সাধনারও ভিত্তি। এই ঘটনার পর থেকেই কাশীকে দেবী অন্নপূর্ণার শ্রেষ্ঠ ক্ষেত্র হিসেবে মানা হয়।


দেবী অন্নপূর্ণার রূপ ও তাৎপর্য:

রূপ: মা অন্নপূর্ণা এক হাতে অন্নের পাত্র এবং অন্য হাতে একটি হাতা (দর্বী) ধরে থাকেন। তিনি রত্নসিংহাসনে বসে ভক্তদের অন্ন দান করেন।

শিক্ষা: দেবী অন্নপূর্ণার গল্প আমাদের শেখায় যে প্রকৃতি এবং খাদ্যের অমর্যাদা করতে নেই। তিনি যেমন শরীরের ক্ষুধা মেটান, তেমনি জ্ঞান ও বৈরাগ্য দানের মাধ্যমে মনের ক্ষুধাও নিবারণ করেন।

     ||<--আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--> ||

=======================

■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■



     

No comments:

Post a Comment