30>|| জগন্নাথের রথযাত্রা 2025 (পর্ব ১+২)
|| প্রভুজগন্নাথের রথযাত্রা ||2025 (পর্ব-১)
<----আদ্যনাথ--->
আজ শুক্রবার 27 জুন 2025।
১২ আষাঢ় ১৪৩২.
শুক্লপক্ষ দ্বিতীয়া তিথি।
আজ প্রভু শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের পুণ্য রথযাত্রা।
আজ সেজে উঠেছে পুরীর রাজপথ,
চারিদিক সুসজ্জিত অক্লান্ত জনপথ,
রাজা থেকে দিনমজুর সকলেই ব্যস্ত,
পথিক প্রশাসন সকলেই শশব্যস্ত তটস্থ।
পুরীর রাজপথে,
সুবিশাল তিনটি রথে,
দুই ভাই ও ছোট বোন মিলে,
ভগবান চলেছেন নগর দর্শনে।
ওনারা যাবেন মাসির বাড়িতে,
বৎসরে একবার জগৎ উদ্ধার করিতে।
পথে হাজার হাজার মানুষ,
দেখছে অপলক নয়নে।
সকলের মনকামনা,
রথের রশি একটু স্পর্শ করা।
রংবেরঙের অতিসুন্দর তিনটি রথে,
অপূর্ব সুশোভন সাজে সাজিয়ে,
তেত্রিশকোটি দেবতা গণ,
চলেছেন তিন রথে আসীন হয়ে।
দেবতারাও আনন্দিত,
তিন ভাই বোনের সাথে।
কি অপূর্ব শোভা যাত্রা,
চারিদিক মুখরিত মানুষের জয় ধ্বনিতে,
তিন ভাই বোন চলেছেন মাসির বাড়িতে।
জগন্নাথ,বলরাম, সুভদ্রা সপ্তাহকাল
থাকবেন মন্দির ছেড়ে মাসির বাড়িতে।
গুন্ডিচা মন্দিরে চলছে উৎসব মহা ধুম- ধামে,
এ-হেন দর্শনে অগণিত মানুষ উদ্ধার হবে।
জগন্নাথ জগতের প্রতিপালক জগৎ পিতা
জগতের নাথ মহা আনন্দে আজ সকল প্রাণীর ত্রাতা,
হাজার হাজার মানুষ মহারথ টেনে আনলেন গুন্ডিচার মন্দিরে।
পুরীর মন্দির থেকে তিন কিলোমিটার পথ,
মানুষের ছিল অবিচল ভক্তি ও শপথ।
রাজপথে ভগবানের সাক্ষাতে বিভোর আনন্দে,
ভগবান দেখছেন জগৎ কে খোলা আকাশের নিচে।
অজস্র মানুষের চলছে বেসাতি,
আজ বণিক ব্যস্ত বিক্রয়ে পণ্য সামগ্রী।
চলছে রথের মেলা পুরীর রাজ পথে,
ভগবান আজ নেবে এসেছেন মন্দির থেকে রাজ পথে।
সপ্তাহ কাল পরে জগন্নাথ দেব ভাই বোন কে নিয়ে,
বাহুদা যাত্রায় ফিরবেন পুরীর মন্দিরে।
সেথায় দেখা দেবেন দেবতা সুনা-ভেষাতে।
<------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->
27/06/2025::--সকাল 5:30 am
=========================
|| প্রভুজগন্নাথের রথযাত্রা ||2025(পর্ব-2)
|| মনুষ্য শরীরই রথ ||
<----আদ্যনাথ--->
নানান আচার অনুষ্ঠানে পূর্ন হয়
রথ-যাত্রার মেলা,
সৃষ্টি কর্তা ঈশ্বরের এও এক লীলা খেলা।
রথযাত্রা নীলমাধবের আশীষ বর্ষণ মেলা।
শরীর রুপি রথের মাহাত্ম্য কথা,
আমাদের শরীর ও জগন্নাথ দেবের রথ
যেন একই সূত্রে গাঁথা।
প্রভু জগন্নাথ দেবের রথ,
সত্যই মানব দেহের প্রতিরূপের শপথ।
প্রভুর রথে আছে কাঠ ২০৬ টি,
মানব দেহে আছে হাড় ২০৬ টি ।
রথের ১৬ টি চাকা যেন
মানব দেহের পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয়,
পঞ্চ কর্মেন্দ্রিয় এবং ষড় রিপুর প্রতীক।
সারথি দারুক যেন বুদ্ধি রূপে স্থিত,
আর রথী প্রভু জগন্নাথ নিজে উদ্ভাসিত।
আমাদের আত্মাই জগতের নাথ,
জগৎ উদ্ধারের তরে প্রভু জগন্নাথ।
উল্টো রথের যাত্রা শেষে,
রথ পুরীর মন্দিরে আসেন ফিরে।
প্রভু জগন্নাথ রথ থেকে নেবে গেলে,
সেই রথকে রাখা যায় না, করা হয় নষ্ট।
(সেই কাঠ পুড়িয়ে জগন্নাথের ভোগ রান্না করা হয়।)
যেমন দেহ থেকে আত্মা চলে গেলে,
শরীরকে রাখা যায় না করা হয় নষ্ট।
(মৃত দেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়)
কঠ উপনিষদেই তো আছে
জীবের দেহ রথ, জীবাত্মা রথী,
মন-হচ্ছে-রথের-রশি-আর-বুদ্ধি-সারথি।
অর্থাৎ আমাদের শরীর রথে
অবস্থিত আত্মাই রথের রথী,
সেই আত্মাকে নির্গুণ স্তরে পৌঁছাতে সারথি বুদ্ধি, রশি মনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে দশ ইন্দ্রিয় এবং ষড় রিপু গুলোকে।
তারপরে আত্মা দেহ ত্যাগ করলে,
শরীরকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মাধ্যমে নষ্ট করাই রীতি।
তাইতো রথের দর্শন ও রশি স্পর্শ,
ইহ জগতে এক শ্রেষ্ঠ কর্ম।
জয় জগন্নাথ,
জয় জগতের নাথ,
জয় ঈশ্বরের ঈশ্বর জগদীশ্বর,
জয় শ্রীকৃষ্ণ হরে মুরারে,
লহো মোর প্রণাম তব শ্রীপদকমলে।।
<------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->
===========================
No comments:
Post a Comment