31>|| পুরীর শ্রীরথের বিবরণ ||
<---আদ্যনাথ--->
★★শ্রীজগ্ননাথ দেবের ১৬ চাকার রথের নাম নন্দিঘোষ ।
নন্দিঘোষের চাকা ২৩ হাত উচ্চতা ।
রথের উচ্চতা: ৪৪ ফুট ২ ইঞ্চি (১৩.৫ মিটার)
দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ: ৩৪ ফুট ৬ ইঞ্চি x ৩৪ ফুট ৬ ইঞ্চি।
জগন্নাথেদেবের রথ লাল ও হলুদ, রঙের
কাপড়ে মোড়া থাকে।
এই রথের সারথী দারুক,
রথের রশির নাম শঙ্খচূড় নাগিনী।
এই রথের ঘোড়া চারটির নাম শঙ্খিনী,রোষিকা,মোতিকা ও জ্বালিনী ।
মত ভেদে:--
শঙ্খ,বহ্লক,শ্বেত,হরিদাশ্ব ।
জগ্ননাথের ঘোড়াগুলির সবকটি সাদা ।
★★ বলরামের ১৪ চাকার রথের নাম তালধ্বজ । তালধ্বজের চাকা ২২ হাত উঁচু। রথের উচ্চতা: ৪৩ ফুট ৩ ইঞ্চি (১৩.২ মিটার)
দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ: ৩৩ ফুট x ৩৩ ফুট
বলভদ্রের রথ লাল ও সবুজ রঙের কাপড়ে মোড়া থাকে।
এই রথের সারথী মাতলি ।
এই রথের রশির নাম বাসুকী নাগ।
বলরামের রথের ঘোড়াগুলির নাম ঋক,সাম,যজু,অথর্ব ।
★★. সুভদ্রার ১২চাকার রথের নাম দর্পদলন । দর্পদলনের চাকা ২১ হাত উঁচু ।
রথের উচ্চতা: ৪২ ফুট ৩ ইঞ্চি (১২.৯ মিটার)
দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ: ৩১ ফুট ৬ ইঞ্চি x ৩১ ফুট ৬ ইঞ্চি।
সুভদ্রার রথ দর্পদলন লাল ও কালো রঙের কাপড়ে মোড়া থাকে,
এই রথের সারথী দেবদত্ত ।
এই রথের রশির নাম স্বর্ণচূড়া নাগিনী।
সুভদ্রার রথের ঘোড়াগুলির নাম শৈব্যা,সুগ্রীব,মেঘপুষ্প,বহ্লক ।
রথযাত্রার সময় সুদর্শন জগন্নাথের পাশে না বরঞ্চ সুভদ্রা দেবীর পাশে অবস্থান করেন ।
তখন জগন্নাথের পাশে ‘মদনমোহন’ বিগ্রহ এবং বলদেবের দু’পাশে ‘রামচন্দ্র’ এবং ‘কৃষ্ণ’ এ দুটি পিতলের বিগ্রহ অবস্থান করেন ।
জগন্নাথের সম্মুখে নৃত্য প্রদর্শনের জন্য একদল সেবিকা রয়েছে যাদেরকে দেবদাসী নামে অভিহিত করা হয় ।
জগন্নাথের রথের প্রতিটি রথের জন্য
1500 টি করে লোহার কিল বা পেরক লাগে অর্থাৎ 1500×3=মোট 4500 পেরক দরকার হয়।
যেগুলি মন্দিরের নিজেস্ব কামড় শালাতে তৈরি হয়, বৎসরে একবার।
<-------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী------>
============================
|| রথ যাত্রার নানান অনুষ্ঠান ||
অনাবসার==
জগন্নাথ পুরীর অনাবসর হল একটি বিশেষ সময় যখন জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রা দেবীকে ১৫ দিনের জন্য বিশ্রাম দেওয়া হয়। এই সময়ে, মন্দিরটি ভক্তদের জন্য বন্ধ থাকে এবং দেবদেবীর মূর্তিগুলিকে নতুন রূপে সজ্জিত করা হয়। এই সময়কালে, দেবতারা অসুস্থ আছেন বলে মনে করা হয় এবং তাদের সেবার জন্য বিশেষ পূজা ও আচার-অনুষ্ঠান করা হয়।
============
হেরা পঞ্চমী::--
হেরা পঞ্চমী হল পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের একটি উৎসব। এই উৎসবটি রথযাত্রা উৎসবের একটি অঙ্গ। আষাঢ় মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিটি ‘হেরা পঞ্চমী’ নামে পরিচিত। এটি হিন্দু দেবী লক্ষ্মীর উৎসব হিসেবে পরিচিত।
হেরা পঞ্চমী গল্প কথা::--
রথযাত্রা উপলক্ষ্যে জগন্নাথ তার ভ্রাতা বলরাম ও ভগিনী সুভদ্রাকে নিয়ে রথযাত্রায় বের হন। জগন্নাথের পত্নী মহালক্ষ্মী মন্দিরেই থেকে যান। এতে মহালক্ষ্মী জগন্নাথের উপর ক্রুদ্ধ হন এবং গুণ্ডিচা মন্দিরে একটি পালকিতে করে সুবর্ণ মহালক্ষ্মী রূপে এসে রাগান্বিত হয়ে
ক্রুদ্ধ ভাবে জগন্নাথ কে যত শীঘ্র সম্ভব মন্দিরে ফেরার জন্য বলেন।
তখন মহালক্ষ্মীকে তুষ্ট করার জন্য জগন্নাথ তাকে ‘আজ্ঞা মালা’ (সম্মতির মালা) উপহার দেন।
মহালক্ষ্মীকে ক্রুদ্ধ দেখে সেবকেরা গুণ্ডিচার প্রধান দরজাটি বন্ধ করে দেন। মহালক্ষ্মী নকচন দ্বার দিয়ে প্রধান মন্দিরে ফিরে আসেন। একটি স্বতন্ত্র প্রথা অনুসারে, মহালক্ষ্মী তার অন্যতম অনুচরকে জগন্নাথের রথ নান্দীঘোষের একটি অংশ ধ্বংস করার নির্দেশ দেন। গুণ্ডিচা মন্দিরের বাইরে একটি তেঁতুল গাছের পিছনে লুকিয়ে তিনি এটি দেখেন। কিছুক্ষণ পর তিনি লুকিয়ে জগন্নাথ মন্দিরে ফিরে আসেন এবং হেরা গোহরি পথ নামে একটি আলাদা পথে মন্দিরে প্রবেশ করেন। এই অনুষ্ঠানটি দেখার জন্য পুরীতে প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়।
এই সমগ্র অনুষ্ঠানটি হেরা পঞ্চমী নামে পরিচিত।
=======================
বাহুদা যাত্রা::--বা উল্টো রথযাত্রা।
বাহুদা যাত্রা, যা উল্টো রথযাত্রা নামেও পরিচিত, এটি ওড়িশার পুরীতে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত একটি উৎসব। এটি রথযাত্রার পর ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রাকে তাদের মূল মন্দির, জগন্নাথ মন্দিরে ফিরিয়ে আনার যাত্রা।
======================
শুনা বেশা বা সুনা ভেষ::--
সুনা ভেষা নামটি দুটি শব্দ থেকে এসেছে, 'সুনা' অর্থ "সোনা" এবং 'ভেশা' অর্থ "পোশাক"।
সুনা বেষা, রাজাধিরাজ বেষা রাজা বেষা, বড় তধাউ বেষা এবং রাজরাজেশ্বর বেষা নামেও পরিচিত , হল এমন একটি ঘটনা যখন হিন্দু দেবতা জগন্নাথ , বলভদ্র এবং সুভদ্রা (জগন্নাথ মন্দির , পুরী ) সোনার গয়না দিয়ে শোভিত হয়।
সুনাভেশা বছরে 5 বার পালন করা হয়।
1●পৌষ পূর্ণিমা পূর্ণিমা (জানুয়ারি),
2●বহুদা একাদশী (জুলাই),
3●দশহারা (অক্টোবর),
4●কার্তিক পূর্ণিমা (নভেম্বর) এবং
5●দোল পূর্ণিমা (মার্চ) পালিত হয়।
==========================
নীলাদ্রি বিজয়::--
নীলাদ্রি বিজয় হলো রথযাত্রা উৎসবের সমাপ্তি এবং ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার নিজ মন্দিরে প্রত্যাবর্তন।
এই দিনে, দেবতারা রথ থেকে নেমে শ্রীমন্দিরে প্রবেশ করেন।
এটি আষাঢ় মাসের শুক্লা ত্রয়োদশী তিথিতে পালিত হয়।
এই উপলক্ষে, দেবী লক্ষ্মীর মান ভাঙানোর জন্য ভগবান জগন্নাথ রসগোল্লা দেন, যা "রসগোল্লা দিবস" হিসেবেও পরিচিত
নীলাদ্রি বিজয়ের মূল ঘটনা:
রথ থেকে নেমে দেবতারা (জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা) শ্রীমন্দিরে প্রবেশ করেন।
দেবী লক্ষ্মী মূল মন্দির (শ্রীমন্দির) এর দরজা বন্ধ করে দেন, কারণ তিনি রথযাত্রায় একা গিয়েছিলেন বলে অভিমান করেন।
দেবী লক্ষ্মীর মান ভাঙানোর জন্য, ভগবান জগন্নাথ তাঁকে মিষ্টি (রসগোল্লা) দেন। এই মিষ্টি বিতরণকে কেন্দ্র করে "রসগোল্লা দিবস" পালিত হয়।
এই ঘটনার মাধ্যমে রথযাত্রা উৎসবের সমাপ্তি ঘটে ।
=======================
No comments:
Post a Comment