33>|| পুরীর মাহাত্ম্য ||
পুরীর মহত্ব পুরীর মন্দির এবং
শ্রীকৃষ্ণ এখানে নিলামাধ, দারুব্রহ্ম রূপে
অধিষ্ঠিত আছেন।
শ্রীকৃষ্ণ রোজ পুরীধামে ভোজন করেন,
সাথে বলরাম ও শুভদ্রাও থাকেন।
স্বয়ং ঈশ্বর যেখানে নিত্য ভোজন করেণ
সেই স্থান তো সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান রূপেই বিবেচিত হবে।
পুরান মতে এমনটাই বিশ্বাস যে ভগবান শ্রীজগন্নাথদেব চার ভাবে চার স্থানে
এই বিশ্বে প্রতিভাত হন।
এবং তিনি প্রতিদিন ভোজনের জন্য পুরী ধামে আবিভূত হয়েছেন-
তিনি সদা সর্বদা ধ্যান মগ্ন থাকেন বদ্রীনাথ ধামে,
রামেশ্বরম ধামে স্নান লীলায় ব্যস্ত থাকেন, দ্বারকায় শয়ন এবং
পুরী ধামে ভোজন।
এই চার ধামের মধ্যে তিনি শ্রীক্ষেত্র পুরী
ধামেই নিত্য আহার গ্রহণ করেন, তাই পুরী ধামের ভোগের মহত্ব এত অসীম।
স্বয়ং মাতা মহালক্ষ্মী দেবী নিজের হাতে নিত্য সেই ভোগ পাক করেন।
সেই কারণেই পুরী ধামে শ্রীশ্রীভগবানের নিত্য সেবা হয় ৫৬ প্রকার ভোগ দেওয়া হয়।
জগন্নাথ দেবের ভোগ গ্রহনের পর মাতা বিমলা দেবী সেই প্রসাদ গ্রহণ করেন। তাই
জগন্নাথ মন্দিরের এই প্রসাদ মহাপ্রসাদ নাম জগত বিখ্যাত। এই মহাপ্রসাদে
থাকে ৯ রকমের চালের পদ, ১৪ রকমের সবজি, ৯ রকমের দুধের পদ, ১১রকমের মিষ্টি,২৩ রকমের পিঠা-পুলি, মালপোয়া ও অনন্য আরও ভোগ ।
শ্রীশ্রী জগন্নাথে দেবের ৫৬ ভোগ গুলো হচ্ছে এই প্রকার:::---
★১) উকখুড়া অর্থাৎ মুড়ি,
★২) পাখাল অর্থাৎ পান্তা ভাত,
★৩) করলা ভাজা,
★৪) শাক ভাজা,
★৫) ঘি ভাত,
★৬) ডাল,
★৭) বিসার অর্থাৎ সবজি,
★৮) মাহুর অর্থাৎ লাবরা,
★৯) নাড়িয়া কোড়া অর্থাৎ নারকেল নাড়ু, ★১০) খুয়া অর্থাৎ খোয়া ক্ষীর,
★১১) দই,
★১২) পাচিলা কাঁদালি অর্থাৎ টুকরো টুকরো কলা ৷
★১৩) কণিকা অর্থাৎ সুগন্ধী ভাত,
★১৪) টাটা খিঁচুড়ি অর্থাৎ শুকনো খিঁচুড়ি,
★১৫) মেন্ধা মুন্ডিয়া অর্থাৎ বিশেষ ধরণের কেক,
★১৬) বড়া কান্তি অর্থাৎ বড় কেক,
★১৭) মাথা পুলি অর্থাৎ পুলি পিঠে,
★১৮) হামসা কেলি অর্থাৎ মিষ্টি কেক ৷ ★১৯) ঝিলি অর্থাৎ এক ধরণের প্যান কেক,
★২০) এন্ডুরি অর্থাৎ নারকেল দিয়ে তৈরি কেক,
★২১) আদাপচেদি অর্থাৎ আদা দিয়ে তৈরি চাটনি,
★২২) মরীচ লাড্ডু অর্থাৎ লঙ্কার লাড্ডু,
★২৩) ছোট্ট পিঠে,
★২৪) বারা অর্থাৎ দুধ তৈরি মিষ্টি
★২৫) আরিশা অর্থাৎ ভাত দিয়ে তৈরি মিষ্টি,
★২৬) বুন্দিয়া অর্থাৎ বোঁদে,
★২৭)খিড়ি অর্থাৎ দুধভাত,
★২৮)কাদামবা অর্থাৎ বিশেষ মিষ্টি ৷
★২৯) পাত মনোহার মিষ্টি
★৩০) তাকুয়া মিষ্টি,
★৩১) ভাগ পিঠে,
★৩২) গোটাই অর্থাৎ নিমকি,
★৩৩) দলমা অর্থাৎ ভাত ও সবজি
★৩৪) কাকারা মিষ্টি ৷
★৩৫) লুনি খুরুমা অর্থাৎ নোনতা বিস্কুট,
★৩৬) আমালু অর্থাৎ মিষ্টি লুচি,
★৩৭) বিড়ি পিঠে,
★৩৮) চাড়াই নাডা মিষ্টি
★৩৯) খাস্তা পুরি,
★৪০) কাদালি বারা,
★৪১) মাধু রুচী অর্থাৎ মিষ্টি চাটনি,
★৪২) সানা আরিশা অর্থাৎ রাইস কেক, ★৪৩) পদ্ম পিঠে
★৪৪) পিঠে,
★৪৫) কানজি অর্থাৎ চাল দিয়ে বিশেষ মিষ্টি.
★৪৬) দাহি পাখাল অর্থাৎ দই ভাত,
★৪৭) বড় আরিশা,
★৪৮) ত্রিপুরি
★৪৯) সাকারা অর্থাৎ সুগার ক্যান্ডি,
★৫০) সুজি ক্ষীর,
★৫১) মুগা সিজা,
★৫২) মনোহরা মিষ্টি,
★৫৩) মাগাজা লাড্ডু
★৫৪) পানা,
★৫৫) অন্ন,
★৫৬) সাগা নাড়িয়া অর্থাৎ নারকেলের দুধ দিয়ে মাখা ভাত ৷
_____________________
শ্রীক্ষেত্র ধামের মাহাত্ম্য কম বেশি সকলেরই জানা আছে তবে এই পুরীধামে
অর্থাৎ নীলমাধবের লীলা ক্ষেত্রের রান্না ঘরের মাহাত্ম্য এক বিশেষ মহত্ব বহন করে।
এই রান্না ঘর সে এক দেখার মতই রান্নাঘর, প্রতিদিন ৭৫২টি উনুনে রান্না হয়, ৬০০জন রাঁধুনি, আর ১,০০০ সহকারী এই কাজ করেন নিষ্ঠা সহকারে।
জগন্নাথ দেবের রান্নায় সব সবজি লাগলেও কিছু সবজি একেবারেই নিষিদ্ধ যেমন -সাধারণ আলু (একমাত্র ক্ষামআলু ব্যবহার করা হয়) লঙ্কা, গাজর, রসুন, পিয়াজ, টমেটো প্রভৃতি।
আশ্চর্যের বিষয় এই পাকশালায় কোনো
বৈদ্যুতিক বাতি নেই। কুপি বা লম্ফ জ্বেলে দক্ষ পাণ্ডারা এই রান্না করে যাচ্ছেন সেই
আদ্দিকাল থেকে আজ একই ভাবে। সব রান্নাই হয় মাটির হাড়িতে করে, কোনো ধাতব পাত্র ব্যবহার হয়না।
রোজ নুতন নুতন হাড়িতে রান্না হয়।
সব থেকে আশ্চর্যের বেপার হলো উনোনের উপর একটা হাড়ির উপর আর একটা হাড়ি চাপিয়ে দেওয়া হয়, এই ভাবে পর পর ৯টি হাড়ি চাপানো থাকে আর শেষ হাড়ির নিচে থাকে গনগনে উননের আচ কিন্তু সব থেকে উপরের হাড়ির রান্না শেষ হয় সবার প্রথমে।
এমন বিচিত্র লীলা লীলাময়েরই এক লীলা
এই লীলার লীলা ময়ী স্বয়ং মা মহালক্ষ্মী।
তিনি নিজেই সব সামালান, বাকি ১৬০০ জন সহযোগী শুধু জোগাড় দিতেই ব্যস্ত থাকেন।
এই সকল কারনেই নীলমাধবের শ্রীক্ষেত্রে এতো মহত্ব।
========================
No comments:
Post a Comment